দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের কার্ড বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য দিতে ডেকে নিয়ে গ্রীণ টিভির ভূঞাপুর প্রতিনিধি কামরান পারভেজ ইভানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মুরাদ আলী এবং স্থানীয় বিএনপির দুই নেতা নুরে আলম ও মহসিন তালুকদার দিপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ওই সাংবাদিক।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার শিয়ালকোলে অবস্থিত খাদ্য গুদামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আতিকুর রহমানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকরা।
জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি চালের কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন দেশ টিভির টাঙ্গাইল প্রতিনিধি অভিজিৎ ঘোষ ও গ্রীণ টিভির ভূঞাপুর প্রতিনিধি কামরান পারভেজ ইভান। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আতিকুর রহমানকে ফোন করা হলে তিনি গুদামে এসে বক্তব্য নিতে বলেন।
পরে সাংবাদিকরা গুদামে গেলে ওসিএলএসডি মুরাদ আলী স্থানীয় বিএনপি নেতা নুরে আলম ও মহসিন তালুকদার দিপুকে সেখানে ডেকে আনেন বলে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে ওই দুই নেতাসহ মুরাদ আলী সাংবাদিক কামরান পারভেজের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। তাকে কয়েক দফা মারধর করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে আহত কামরান পারভেজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
আহত সাংবাদিক কামরান পারভেজ বলেন, ‘অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তারাই আমাকে গুদামে ডেকে নিয়েছিল। সেখানে যাওয়ার পর বিএনপির নেতাদের দিয়ে হামলা করানো হয়। ঘটনা বাইরে প্রকাশ না করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
দেশ টিভির টাঙ্গাইল প্রতিনিধি অভিজিৎ ঘোষ বলেন, ‘রিপোর্টের জন্য ইভানের সহযোগিতা নিচ্ছিলাম। তাকে নিয়ে খাদ্য গুদামে যাওয়ার পর ওসিএলএসডি দুই বিএনপি নেতাকে ডেকে আনেন। তারা এসে ইভানকে মারধর করেন। কয়েক দফায় তাকে মারধর করা হয়েছে।’
তবে বিএনপি নেতা নুরে আলম ও মহসিন তালুকদার দিপুর দাবি, ওই সাংবাদিক খাদ্য গুদামে চাঁদাবাজি করতে এসেছিলেন। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ করায় ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে তাকে ‘শাসন’ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। তবে তাদের অভিযোগের পক্ষে কোনো সংবাদ বা তথ্যের লিংক দেখাতে পারেননি তারা।
ওসিএলএসডি মুরাদ আলী বলেন, ‘ফোন করে নয়, ওই নেতারা ইচ্ছা করেই গুদামে এসেছিলেন। পরে তারা ওই সাংবাদিককে মারধর করেছেন। পরে আমরা তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি।’
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই ন্যক্কারজনক। একটি অফিসের ভেতরে গিয়ে এভাবে কাউকে মারধর করার সুযোগ নেই। তারা কী কারণে মারধর করেছে, তা জানা নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।